Sign up with your email address to be the first to know about new products, VIP offers, blog features & more.

টাকি সফর নামচা

আজ বড়দিন। বিগত কয়েকবছর এই দিনে আমরা কোথাও না কোথাও বেরিয়েছি। শেষ দুই তিন বছর তা হয়নি। অতয়েব দৃঢ় প্রত্যয়ে পরিবারের সদস্যদের নিয়ে বেরোলাম সেই কোন সকালে। অজানা গন্তব্যে পথের সাথী গুগল ম্যাপ।
বাসন্তী হাইওয়ে ধরে সোজা পথ বেয়ে , একেবেকে , থমকে দাড়িয়ে ছুটির দিনে একটা দীর্ঘ পথ ড্রাইভ করে ঠিক সময়ে পৌছালাম।


টাকি – ছোট্ট গ্রাম অধুনা সহর বলা চলে। পুকুরপাড়ের জোড়া মন্দির , অনামী দেবদেবীর মন্দির , জরাজীর্ণ বুড়ো অশত্ত্যর শিকড়ের লালিত্য মাখা রাজবাড়ি ,অবহেলিত লুপ্তপ্রায় অনির্বচনীয় নকশাখচিত দুর্গাদালান, সরু রাস্তার পাশে হলুদ ধানক্ষেত ,খেজুরগাছে হাড়ি , পথচলতি হটাত দাড় করানো হাঁসেদের সারি – এই সব নিয়েই মোটর চালিত ভ্যান ওয়ালা মোর্শেদ মিয়ার মত আরো বহু পরিবারের জীবন চর্যা। 


কিন্তু সর্বপরি যা প্রত্যক্ষ করলাম তা অনির্বচনীয়। ইছামতির জলে চিকচিক করা প্রতিবেশী দেশ – থুড়ি আমার দেশ “বাংলাদেশ”। যতদুর দৃশ্যমান সেটা নাকি সাত্খীরার অংশ। যারা সুন্দরবন গেছেন দূর থেকে দেখলে সেরমই একটা সান্নিধ্য পাবেন।
বাবার সাথে কাটানো কিছু মূহুর্তর স্মৃতির পৃষ্ঠাতেই তার পাঠশালার গল্প ,আমাদের দেশের বাড়ির স্মৃতি ,পিতামহের নামযশ ,তদানিন্তন চওরা রাস্তা , আরো অনেক গ্রাম্য জীবনের সারল্য ও নানা প্রাসঙ্গিক অপ্রাসঙ্গিক চরিত্রের বয়ানেই আমার মানসিক বাংলাদেশ ভ্রমন। পিতৃবিয়োগের পর স্মৃতিচারণার অভাবে আজ অনেকটাই ম্লান। কিন্তু যা শুনেছিলাম তারথেকে যতটা মনে ছিল , আজ যেন কথাও তার একাত্ততা অনুভব করলাম।
বিজয়া দশমীতে দুই দেশের থেকে আসা নরম মাটিতে গড়া দূর্গা প্রতিমা দুটি নৌকায় এনে দুটি নৌকার সরে গিয়ে এই সেই ইছামতির জলে ভাসানের প্রথা আজও অমলিন। জগত্জননি জলের তলায় তলিয়ে যাবার আগ মুহুর্তের সেই চোখের জলই যেন এই নদীর মহিমা। নৌ বিহারের সফর সঙ্গী বয়স পনেরর মাঝি ভাইয়ের বয়ানের সাথে বাবার কথার যেন মিসিং লিংক পেলাম।তার চোখেও যেন একচিলতে জল চলকে আসা। এ জল আনন্দের , গর্বের।

বাবা বলত বাংলাদেশ আমাদের শিকর , তার সাথে অত্তিযতা না নারীর টান. বাংলাদেশের মাটির সেই মমত্ব বয়ে আনা ইছামতির পলিমাটি কপালে লাগিয়ে পূর্বপুরুষদের নৈকট্য পাওয়ার সৌভাগ্য বা উপায় হয়নি কিন্তু দেখেছি নদীমাতৃক দেশের মোহনায় ইছামতি , বিদ্যাধরী আর কালিন্দীর সংগম স্থল।

সহর না গ্রাম তা প্রত্যক্ষ করা হয়নি কারণ নদী তির থেকে তা নিশ্চই অনেক ভিতরে অবস্থিত , কিন্তু এই সংশয়টা আজকে থাকা জরুরি ছিল – ভবিষ্যতে কোনদিন যদি সুযোগ হয় নিজেদের ভিটে মাটির সন্ধানে বেরোবার দুহাতে আঁকড়ে ধরব।

আজ সত্তি বড়দিন।

A blogger in search of diversified shades of life…

share

Leave a Reply

Be the First to Comment!

Notify of
avatar