Sign up with your email address to be the first to know about new products, VIP offers, blog features & more.

শুভ হোক দোলযাত্রা

 

Picture Courtseydetechter.com

জীবনের পর্ব গুলো বড়োই খামখেয়ালি।

একটা সময় এমন ছিল যখন মোটামুটি সবাই বলতো -“রাত্তির বেলায় কেমন গরম লাগে আর ভোর রাতে চাদর “.
তারপরে একটা পর্বে শুনতাম গুরুজনেরা বলতেন “সাবধানে থেকো বছরের এই সময়টা বড় খারাপ,ঘরে ঘরে শুনছি. ইত্যাদি প্রভিতি। ” .

এরম করে ভালো মন্দ মিলিয়েই প্রতি বছরেই বোঝা যায় কখন যেন “বসন্ত এসে গ্যাছে ”

একটু বড় হয়ে বসন্তের সংজ্ঞা টিও কেমন যেন প্রাপ্ত বয়স্ক হলো। থাক সে কথা ,আলোচ্চে ফেরা যাক।

আজ বছরের সেই সময় যখন সবার মুখেই একই সুর। আজ “দোল ” – রাবীন্দ্রিক আঙ্গিক “বসন্ত উৎসব “.

ছেলেবেলার স্মৃতির গলিতে একটু ফিরেগেলে বেশ দেখতে পাই সেই মাঠ ।একসপ্তাহ ধরে এ পাড়া ও পাড়া ঘুরে চলতো শুকনো নারকেল ,সুপুরি পাতা জোগাড়। তা দিয়ে তৈরী হবে বুড়ির ঘর। ভেতরে আলু দিয়ে অন্ধকার নামতেই পূর্ণিমার মিষ্টি আলোতেই জ্বালানো হতো আগুন। তদানীন্তন সিনিয়র দের দৌলতে এই ঘর পোড়ানোর জাস্টিফিকেশন। মনে থাকতো হাজার প্রশ্ন।

আগের দিন থেকেই তোর জোর , গঙ্গা মাটি , আর তা নাহলে নেহাত বাগানের মাটির সাথে জল মিশিয়ে আটা মাখার মতো করে একটা ডো বানিয়ে তারপর তাকে তিনটি ভাগ। তারপর তিনটিকে বর্গক্ষেত্রের মতো আকার দিয়ে একটার উপর আরেকটা বসালেই তৈরী সিঁড়ি। থুড়ি “মঞ্চ “. ভোর বেলায় কাঠের দোলায় বসবেন স্বয়ং “শালগ্রাম শিলা ” – হবে নারায়ণের পূজা। মহানন্দে মন্ত্রোচ্চারণের মাঝে দেয়া হবে লাল ,গোলাপি আবির। প্রসাদ খাবার অন্তে শুরু হবে আমাদের দোল। সতীর্থ দের সাথে রঙ মাখার মাঝে হতো মানসিক আদানপ্রদান, তৈরী হতো সম্পর্কের বুনিয়াদ। “স্পর্শ ” একটি সাংঘাতিক বস্তু। চেনা অচেনা, ছোট বড় ভুলে হতো পাড়া জুড়ে রঙের খেলা। দোল তো আসলে আছিলা , বন্ধুত্বের কোনো রং হয়না। আর আবিরের রঙের হাত ধরে তাই হতো সম্পর্কের ছবি আঁকা,মানসিকতার দেয়া নেয়া।

সময় বদলেছে ,বদলেছে পরিস্থিতি। আজ কর্ম ব্যস্ততা ,জীবনচর্যার অজুহাতে দলছুট সেই সব কচিকাঁচার দল। সকলেই দায়িত্বশীল ,কর্মব্যস্ত। কিন্তু এই দিনে মন টানে আবার একবার ঘড়ির কাটাকে ঘুরিয়ে দিতে যেখানে জামায়েত হবে সবাই সেই মাঠের মাঝখানে নিয়ে বালতি বালতি রং ,পিচকিরি ,বেলুনের প্যাকেট। পাশের বাড়ির কাকিমা নাক সিঁটকাবেন “ডিসগাস্টিং ” বলে। আর খিলখিল করে হাসবে তরুন দল। বাড়ির ছাদের থেকে পর্বে জুনিয়রদের হাতে ছোড়া রঙের বেলুন। মোড়ের মাথার বাড়িতে গেলে পাওয়া যাবে মিষ্টি , ভাগ্য প্রসন্ন হলে সফ্ট ড্রিংক।

এখন হয়তো এগুলো গল্প – অলীক স্বপ্ন। তবুও ভালো লাগে ফিরে তাকাতে। এখন দোল মানে নেহাত একটা ছুটির দিন। তাই অনেকদিন পরেও হটাৎ ছুটির দিনের অলসতা কাটিয়ে সাত সকালে ফোন করে ঘুম ভাঙিয়ে বলা “ভালো আছিস ?” জানতে চাওয়া কাল যারা ছিল কাছের মানুষ তাদেরও কি মন টানে। পরিষ্কার বুঝতে পারি – তারাও আমারি মতন পরিস্থিতির আসামি। বোঝা যায় এখনো আছে সম্পর্ক। এখনো আছে সেই রঙিন তরতাজা হাতের ছাপ ,যেটা দুস্টুমির আদলে দেয়া হয়েছিল সদ্য চুনকাম করা কোনো বাড়ির দেয়ালে – আজ সেই ছোট্ট হাতের ছাপ আছে আমাদের মনে।এভাবেই চোখে লেগে থাকুক সরল শৈশবের স্বপ্নালু ঘোর। হয়তো এই ঘোর থাকবে সারাজীবন – আর যখন কোনো বন্ধুর চুপিসাড়ে গোলা একবালতি রং করবে আমাদের আপাদমস্তক স্নান – ঘোর কাটবে , অবাক বিস্ময়ে একগাল হাসি মুখে হয়তো দেখবো বার্দ্ধক এসে কড়া নেড়ে বলছে ” আজ বসন্ত ”

শুভ হোক দোলযাত্রা – দীর্ঘায়ু হোক নবীন প্রবীণ সকলে , বেঁচে থাকুক সম্পর্কের বুনন।

A blogger in search of diversified shades of life…

share

Leave a Reply

Be the First to Comment!

Notify of
avatar