Sign up with your email address to be the first to know about new products, VIP offers, blog features & more.

হেনরি আইল্যান্ড

গতানুগতিকতার মায়াজাল থেকে মুক্তির সন্ধান বর্তমান সমাজের সকল মানুষেরই কাম্য। সামান্য একটু সুযোগের অপেক্ষা, একটু ছক কষে নেওয়া আর অনেকটা বাইরে বেরোনোর তাগিদ। এই রসদ থাকলেই আপনি পারবেন কাছে, দূরে, স্বদেশে বা বিদেশে পাড়ি দিতে। তবে যেটা মুখ্য তা হলো নতুন জায়গার সাথে পরিচয়, সেখানকার মানুষের জীবনচর্যার সাথে একাত্ম হওয়া আর অনেকটা সুখস্মৃতি জড়ো করা ভবিষ্যতের জন্য। যা হবে আবার দৈনন্দিন জীবন চর্যার রসদ।

এমনি এক ছুটি কে কাজে লাগিয়ে যত সাম্যান্য পোটলাপুঁটলি বেঁধে রওনা হওয়া – গন্তব্য “হেনরি আইল্যান্ড ”

অনেকদিন ধরেই নামটি শুনে মনে ভিষণ ইচ্ছে ছিল কলকাতার থেকে সামান্য অদূরের এই জায়গাটি কে কাল্টিভেট করতে হবে-

সড়ক পথে তাড়াতলা ধরে ডায়মন্ড হারবার রোড ধরে সোজা রাস্তা পৈলান ,জোকা পেরিয়ে শিরাকল মোড়ে পৌঁছে ডানদিকে বাঁক – পৌঁছাবেন বাঙালির এটি পরিচিত ডায়মন্ড হারবার।

রাস্তার ডানদিকে প্রশস্ত ‘হুগলী নদী”, বামে ছোট জলদি প্রাতরাশ সারার জন্য “সাগরিকা লজ ” – প্রয়োজনে আপনি বাইরেও খেতে পারেন।

এখন থেকে আরো বেশ খানিকটা গিয়ে “নামখানা“।

এখান থেকে জলপথে আপনাকে যেতেহবে উল্টোপারে। গাড়ি থাকলে বজরায়। ভ্রমণ পিপাসুদের সুবিদার্থে বলি যত তারতারি পৌঁছানো যায় ততই ভালো ,কারণ পণ্যবাহী গাড়ির সারি বেশ থাকে সকালে। ১ থেকে ২ পর্যন্ত কর্ম বিরতি। গাড়ি নিয়ে যেতে পারেন তাতে ভ্রমণটি রোমাঞ্চকর হতে পারে কারণ আপনাকে গাড়ি সমেত বজরায় পাড়ি দিতে হবে। ঈশ্বরের অসীম করুনায় সেদিন আবহাওয়া অনুকূল থাকায় খেয়া বাওয়ার পুরো ব্যাপারটি নির্বিঘ্নে হলো। এবার পৌঁছে সোজা রাস্তা ধরে আপনি যাবেন গ্রাম্য পরিবেশকে সঙ্গী করে। মাঝেমধ্যে গৃহপালিত পশুরা আপনার পথ আগলাবে, সরল সাবলীল গ্রামের মানুষ আপনাকে পথদেখাবে।

হেনরি আইল্যান্ড পৌঁছে সামান্য প্রবেশমূল্য দিয়ে আপনি ঢুকবেন অনেকটা ভিতরে -আঁকাবাঁকা পথে এসে পড়বেন মাছেরভেরীর সামনে। সেখান থেকে কিছুটা পদব্রজে সমুদ্রতট। যাবার রাস্তাটিও ভারী সুন্দর – প্রকৃতির বিবিধ রূপ ধরা পড়লো যাত্রাপথে – কখনো সবুজ প্রান্তর , দূরে ঝাউবন – আবার কোথাও চাষের জমি তে সূর্যমুখী ফুল – কোথাও বার গ্রীষ্মের দাবদাহে মাটি ফুটিফাটা।

এইভাবে সোজা যেতে গিয়ে হটাৎ দেখেন সবুজ গাছের সারি ভারী চমৎকার এক রূপে ফটকের রূপ নিয়েছে – এ যেন এক “করিডোর” – আধুনিক কৃত্রিমতা আর প্রকৃতির সানিধ্য।

ঢুকে পড়লাম বাশ, অজানা গাছ আর ঝাউয়ের সারির মধ্যে দিয়ে

– আর একটু যেতেই দেখবেন প্রশস্ত বালুকা বেলা।

এই অঞ্চলের বালি খুব মিহি তাই তার বাঁধন পাতলা – স্বাভাবিক ভাবে চোরাবালির আধিক্য – তাই জলে স্নানে না নামে শ্রেয়।

ছেলে বেলায় পুরীর সমুদ্র তীর এ ঝিনুক করানোর স্মৃতি রোমন্থন যারা করতে চান তারা খুব বেশি না হলে কিছু পারবেন।

বালুকাবেলায় ছোটছোট কাঁকড়া তাদের নিজ শিল্পসৌকর্যে আপনমনে বাসা বেঁধে চলেছে আর সেই নকশা মানব সমাজের কাছে এক আশ্চর্য।

সমুদ্র তার নিজের খেয়ালে কি সাবলীল ভাবে আল্পনা দিয়ে চলে – জোয়ার ভাটা যেন তুলি আর প্যালেট। কখনো আঁকেবাঁকে সামান্য জল

-কখনো উত্তাল – তবে সব কিছুর মাঝে মন বাড়ে বাড়ে চাইবে একটি নীরবতা – আর অনেকটা নিজেকে সময় দেয়া – যা দৈনন্দিন জীবন সোনার হরিণ

 

– খুব প্রচলিত একটি প্রবাদ হয়তো তারই আক্ষেপ সুরবাহক।

Solitude is bliss

– আক্ষরিক অর্থ – নির্জনতাই পরম সুখ।

 

A blogger in search of diversified shades of life…

share

Leave a Reply

Be the First to Comment!

Notify of
avatar