Sign up with your email address to be the first to know about new products, VIP offers, blog features & more.

শুভ বসন্ত পঞ্চমী

প্রতিবারের ন্যায় গতকাল ছিল বিদ্যা আরাধনার দিন , মানে সরস্বতী পূজা। বছরের এই দিন টি বেশ মজার। অদ্ভুত ভাবে বয়সের ক্রমবিকাশের সাথে সাথে পরিবর্তিত হতে থাকে এর সংজ্ঞা।

মনে পড়ে ছোটবেলা সেই কোন ভোরে লেপের আলস্যি ত্যাগ করে সর্ষে হলুদ বাটা গায়ে মেখে স্নানান্তে পুরোহিত মশাইর আগমন , পূজা , প্রসাদ বিতরণ। তারপর স্কুলে যাওয়া। বছরের এই দিন যে যেমন খুশি পোশাক পর। শৈশবের স্বাধীনতার দিন বলা বাহুল্য। স্বাভাবিক ভাবে অনেকের কাছে প্রথম এক্সপেরিয়েন্স। প্রথম ধূমপান , প্রথম প্রেমে পরা , আবার হয়তো সংঘ দোষে ড্রেনে পড়া।
যদিও অন্যান্য বছর সরস্বতী পূজা হয় ফেব্রুয়ারির মাঝামাঝি এই বছর একটু ব্যাতি রেখে একটু আগেই। ওহ ! একটু বড় হয়ে সংজ্ঞা তা ফেব্রুয়ারী মাসের হাত ধরে বড় হল – সান্টা বুড়োর মতোই আলাপ হলো ভ্যালেন্টাইন্স বুড়ো র সাথে। যথারীতি বাঙালির অন্যতম পার্বন এই পূজার সাথে “প্রেম দিবসের “ তুলনা। কেউ আবার তাকে “বাঙালির ভ্যালেন্টাইন্স ডে ”তকমায় ভূষিত করেন। তবে প্রতিটি দিন তার স্বমহিমায় উজ্বল।

তবে এই তর্কের মধ্যে একটি জিনিস ধীরে ধীরে ক্ষীণ হয়ে যাচ্ছে। সেটি হচ্ছে “বসন্ত পঞ্চমী ”, বসন্তের আগমনী।
শোনা যায় বছরের এই সময় উত্তর ভারতে সর্ষে ক্ষেত্ হরিদ্রাভ সর্ষে উৎপাদনে পরিপূর্ণ হয়ে ওঠে। আবার অনেকে বলেন হলুদ রং হলো শীতল শীতের রুক্ষতা কাটিয়ে ফুল ফলের পরিপক্ক হবার ইঙ্গিতবাহক।আবার “হলুদ” রং সৌভাগ্যের প্রতীকী। আসলে বছরের এই সময় প্রকৃতি আরো রঙিন হয়ে ওঠে যা যৌবনচ্ছল প্রাণের প্রাণ ভোমরা। তাই বসন্তই যেন সবার মনগ্রাহী যার পরিপূর্নতা পায় বসন্ত উৎসবের রঙের ছটায়। “আজি বসন্ত জাগ্রত দ্বারে ” বা নিতান্ত “বসন্ত এসে গ্যাছে ” গুনগুন করলেও মানুষ কর্ম ব্যস্ততার মধ্যে হারিয়ে ফেলছে তার নিজস্ব ”বসন্ত ” ঋতুকে।

তবে সকল উৎসবের সার – মানুষ থেমে না বরং প্রেমে থাকুক। দীর্ঘায়ু হোক যৌবন , চিরনবীন থাকুক হলুদ রং রাঙিয়ে দিক মানুষের হৃদয়।

তাই সকলকে একটু দেরি হলেও কানে খটকা লাগিয়ে বলি –

শুভ বসন্ত পঞ্চমী !

share

Leave a Reply

avatar
  Subscribe  
Notify of