Sign up with your email address to be the first to know about new products, VIP offers, blog features & more.

একটি আয়াতক্ষেত্রাকার মাঠ, আর সেই মাঠের দুই বিপরীত কোনকে একটি কাল্পনিক সরলরেখা দিয়ে যোগ করে সেই রেখা বরাবর এসে পৌঁছানো যায় রাস্তার পাশে ছোট্ট একটি ঘুমটি ঘর। টুকরো কাঠের তক্তা , টিনের ছাউনি , কিছু প্লাষ্টিক সিট একত্র করে তৈরী ছোট্ট একটি দোকান।

চার হাত বাই চার হাত আয়তনের এই ছোট্ট দোকানের ভিতরে পরিপাটি করে থাকে নিপুন হাতের দক্ষতায় গড়া একটি মাটি দিয়ে নিকোনো উনুন , একটি কাছের সেল্ফ, কিছু প্লাস্টিকের হলুদ রঙের বড় ডালদার কৌটা আর থাকে দুটি কুপি বা পিদিম গোছের।

অবিশ্রান্ত বর্ষার অলস বিকেল হোক বা কনকনে শীতের হিমেল সন্ধে – সূর্যাস্তের পরে যেন এই দোকান উদ্ভাসিত হয় হলদে কমলা বর্ণের কেরোসিনের আলোয়। এতক্ষন যে দোকানটির কথা উল্লেখ করলাম সেটি নিতান্ত ফুটপাথের অগোছালে থাকা একটি চপের দোকান। হ্যা চপ , ইদানিং যেকোনো রাজনৈতিক তরজায় যা খাদ্যতালিকার বহির্ভূত বেশি রসিকতার খোরাক অধিক। আধুনিক ডায়েটচার্টের পক্ষে আনহাইজিনিক তো বটেই। সেই দোকানের ভিতরে থাকতো দুই বুড়োবুড়ি। পরেশ পাল (কাল্পনিক ) যৌবনকালে ব্রিজ এর কোনায় দাঁড়িয়ে কাগজের ঠোঙায় খেতেন মুড়ি আর অপেক্ষা করতেন তার অধুনা প্রায় পঞ্চাশ বছরের অর্ধাঙ্গিনী তদানীন্তন প্রেমিকা ফুলরানীর (কাল্পনিক )জন্য।

সেই থেকে শুরু এই চপের দোকান, মুচমুচে সন্ধেবেলায় দারিদ্রকে ছেঁড়া শাড়ি আর তুলোর গদির তলায় দাবিয়ে তার উপরে গ্যাট হয়ে বসে কালিপড়া কড়াইয়ে গনগনে উনুনের আঁচে বুড়ি ভাজতেন বিবিধ চপ বেগুনি ফুলুরি আর বুড়ো সামলাতেন ফিনান্স আর লাস্ট মাইল ডেলিভারি।

ইদানিং কলকাতার বুকে শীত পড়েছে জাঁকিয়ে।বিগত কয়েক সপ্তাহ দোকানটির ঝাঁপ বন্ধ থাকার পর দেখলাম কাল খুলেছিলো। বুড়ির কপালে ছোট্ট চন্দনের টিপ্, হাথ খালি মানে মোটা শাঁখা আর পলা নেই। মাঠের উপর থেকে বয়ে আশা কনকনে ঠান্ডা হাওয়া জানান দিলো সর্বনাশের বার্তা।

দোকানে টিমটিম করছে “একটি” পিদিম – আরেকটি নেই !

With Love,
signature
share

Leave a Reply

avatar
  Subscribe  
Notify of