Sign up with your email address to be the first to know about new products, VIP offers, blog features & more.

কাঁটা তারের জীবন

নাসের আলী মোল্লা 

– একটানাম, খুব ভুল না করলেএতক্ষনে আপনারা মনে মনে তার অবয়ব সম্পর্কে সম্মক ধারনা না থাকলেও একটা খসড়াচিত্র এঁকে নিয়েছেন।
একটু মিলিয়ে নেবেন নাকি?

-বয়েস প্রায় পঞ্চাশ ছুঁইছুঁই, গায়ের রং শ্যাম,গালে লম্বা পাকা দাড়ি।আদি নিবাস বাংলা দেশ বর্তমানে কলকেতা শহরের সোনারপুর!এক কামরার ঘর।নিজেই আলুটা পটলটা কিনে কোনো মতে চলে যায়।

– নামখানার কাছে গ্রামে আছে তার বেগমজান আর ভায়া।সেই কোন সকালে সে ট্রেন এ করে এসে ডাব দিয়ে যায়, বছরের একটি বিশেষ সময় আসে তাল।সরল জীবনচর্যায় অভস্ত মানুষের হাতের তালুতে থাকে ধারালো হাতিয়ার।শান দেয়া দায়ের সপাং সপাং আঘাতে ফালা ফালা হয় কচিডাব।গ্রীষ্মের চড়া রোদ বা বর্ষার বৃষ্টি কে উপেক্ষা করে তার কালো সাইকেলের তরতর করেএগিয়েচলা।ক্যরিয়ার এ একটা বেড়ার কিছু-র মধ্যে ডাবের বোঝা নিয়ে স্যান্ডোগেঞ্জি আর একটা লাল সাদা গামছা গায়ে এক পাড়া থেকে অন্যপাড়া।

অদ্ভুততারবিপণনপন্থা-

”লেবেডাব- লেবেডাব“
নাকি
“ডাব লেবে- ডাব লেবে”
নাকি“ডাব লেবে ডাব”

পাশের বাড়ির চকোত্তির নাতি কান পেতে শোনে কিন্তু বুঝতে পারে না সেই লাইনের সিকোএন্সিং।
ফেলে দেয়া ডাবের খোলস শুকিয়ে গেলে তা দিয়ে ফুটবল খেলা আজকাল কার শহুরে শৈশবের অজানা,তার থেকে শপিংমল, গেমিংজোনের ভিডিও পার্লার আর নিয়নের আলো বেশি প্রিয়।

রবিবারের বাজারে থাকে তার পসড়া।বাবুরা বাজার করতে এসে ক্লান্ত হয়ে শুধু ডাব নয়- জল শেষে আধ ফালা করে কেটে নরম সাদা লেওয়া খেয়ে তৃপ্তি পান।

বাজার এমনি একটি স্থান যেখানে শুধুই মানুষের ভিড়।সেখানে স্থান পায়না কোনো রাজনৈতিক সংকীর্ণতা- কোন মানুষ এদেশ না ওদেশের- বেড়ার এ পারে না ওপারের।

সেখানেএকটাই সত্য-

কোথায় সীমানা,কারা নাগরিক,
কিসের কাঁটা তাঁর।
বিশ্ব জুড়েই থাকুক মানুষ
পৃথিবীটা“ জনতার”!

share

Leave a Reply

avatar
  Subscribe  
Notify of