Sign up with your email address to be the first to know about new products, VIP offers, blog features & more.

দুষ্টু শৈশব

দুপুর থেকেই একটা দমবন্ধ করা ভ্যাপসা গরম, কেমন যেন সব চলতে চলতে হটাৎ থমকে যাওয়া। ঘড়ির কাঁটা বারোটার গন্ডি পেরোতেই শুরু হয় পাল্লা দিয়ে তীব্রতার নির্বাক প্রতিযোগিতা।

বইয়ের পাতায় আলাপ হয়েছিল “চৈত্রের দাবদাহ” – র সাথে। তবে তার থেকেও চেনা ছবি – গনগনে দুপুর বেলায় ক্লান্ত প্রাণীদের রাস্তার কোনো এক গর্তে জমে থাকা অজানা জলের সন্ধান। পাড়ার ভিতর দিয়ে টং টং করে কাঁসর বাজিয়ে কাঁসা পিতলের বাসনওয়ালারা আর আসেনা, আচারের গাড়ি, আইসক্রিম ওয়ালারাও ভ্যানিশ। এখন নিজের অজান্তে কখনো বারান্দায় গিয়ে দাঁড়ালে অনুভব করি দিনবদলের ছবি – মাঝে মাঝে এই নিঃশব্দতা খান খান করে ভেঙে দেয় কিছু “দুষ্টু” চড়াই পাখির ফুড়ুৎ। ভাবছেন শহরে এই ধরণের পাখি ? না শালিক নেই , তবে হাতে গোনা কিছু চড়াই চুপিসাড়ে বাসা বুনেছে আমারই বারান্দার এক নিভৃতে। অবশ্য তারাও ক্লান্ত। তবে সে ক্লান্তি সভ্যতার আগ্রাসন।

বিকেল যখন পড়ে এলো তখন প্রায় সাড়ে পাঁচটা – হটাৎ যেন দেখি রাস্তার ধুলো,শুকনো পাতার পাক খেয়ে ওঠা। বুঝলাম কেউ যেন শীতল ষড়যন্ত্র কষছে – যেমনি ভাবা তেমনি কাজ। উপলব্ধি করবার আগেই শুরু হয়ে গেলো দমকা হাওয়ার নাচন।

(প্রসঙ্গত আমি তখন লেক মার্কেট অঞ্চলে – তাই হয়তো এই ভারী মজার অভিজ্ঞতার উপলব্ধি )

শহরের আকাশ সযত্নে ফেস্টুনে ঢাকা, তাকে পরম লালিত্যে জড়িয়ে থাকে ট্রামের তার, দূরভাষে তথা দূরদর্শনের তার, ইদানিং নতুন আমদানি ফাইবার অপটিকস। তারই কোনো এক বেড়াজাল টপকে ইতিউতি উঁকি দেয় গেরুয়া, নীল বা সাদা রঙের শহুরে ভেপার। কিন্তু আজ আবার প্রত্যক্ষ করলাম প্রকৃতির সেই সাবলীল রূপ যা ভীষণ চেনা।

Image Courtsey: Google

কলকাতার বড় বড় বাজার গুলির কিছু নিজস্ব গন্ধ আছে – সে মাছের বাজার হোক , মুদির দোকানের চত্বর – কিছু বর্ণ আছে সে সব্জিবাজারের সবজির বিবিধ রং হোক বা বাজারের কেন্দ্রে চায়ের স্টলে আলোচনা। ইদানিং নির্বাচনী প্রচারের কল্যানে মায়ানগরী ক্রমশঃ বেশি করে বর্ণময়। লাইটপোস্টের গায়ে, বাড়ির দেয়ালে, দোকানের দরজার কোনো এক ইট বের হওয়া গর্তে সর্বত্র রয়েছে বর্ণময় পতাকা, দেয়াল লিখন। আর আছে প্লাষ্টিক, সিনেমার পোস্টার, ত্রিপল, ফুলের বাজার, ফলের বাজার – সর্বত্র যেন রং আর রং।

সবই চলছিল নিজের খেয়ালে হটাৎ করেই সশব্দে দুলে উঠলো শহরের মগডালে থাকা দৈত্যাকার চলচ্চিত্রের ফেস্টুন। তার একপ্রান্ত ছিঁড়ে গিয়ে ফরফর শব্দে জানালো “কালবৈশাখীর” আগাম বার্তা। মুহূর্তে সব লণ্ডভণ্ড করে শুরু হলো তার তান্ডব – ক্রমশ শুরু হলো টিপটিপ থেকে ধীরে ধীরে সজোরে বৃষ্টি – ব্যাস ! মুহূর্তে যেন প্যালেট এর রং গুলি এদিক ওদিক হয়ে মিশে গেলো একে ওপরের সাথে। সংলগ্ন পার্কের বেঞ্চ গুলি হয় উঠলো রঙিন।

বৃষ্টি থামলো তবে পুরোটা নয় – একটু এগিয়ে দেখি গড়িয়াহাটের চৈত্র সেলে অগুনতি মাথার ভিড়। হাতে অবশ্যই বিভিন্ন রঙের ছাতা – আর এই ছাতাই বলুন বা মাথাই বলুন – চৈত্রের সন্ধ্যে বেলায় মুহূর্তের এই চিত্রপট পরিবর্তন এক অনির্বচনীয় – রাস্তার হ্যালোজেন থেকে চুইয়ে পড়া রঙে স্নাত হলো কল্লোলিনী।

Image Courtsey: Google

তবে যেটা ভীষণ ভাবে উপলব্ধি করলাম, এ শহরে বৃষ্টি পড়লো – জমলো জল – কিন্তু ভাসলোনা কোনো কাগজের নৌকো, দামালের দলের ছোট পা গুলি প্রথম বৃষ্টির আনন্দে ভিজালোনা কোনো প্রবীনকে ।

কারণ, শহুরে জীবনে চড়ুই পাখির মতন হারাচ্ছে “দুষ্টু” শৈশব।

আস্তে – আস্তে !

নিঃশব্দে।

share

Leave a Reply

avatar
  Subscribe  
Notify of